সুশাসনের অভাবে চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রান্তি: ফখরুল

৩৮

স্টাফ রিপোর্টার,ঢাকা :

ঈদের দিন বুধবার সকালে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানানোর পর তিনি আরও বলেন, উৎসবের এই দিনেও মানুষের মনে আনন্দ নেই।

বুধবার বাংলাদেশে উদযাপিত হচ্ছে রোজার ঈদ। আগের দিন সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা না যাওয়ার কথা জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বৃহস্পতিবার ঈদ উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু রাত ১১টার দিকে সিদ্ধান্ত বদলায়।

ফখরুল এই প্রসঙ্গটি তুলে সাংবাদিকদের বলেন, “আমি মনে করি, দেশে সুশাসন না থাকলে যা হয়, তাই হয়েছে। উনারা ৮টা-সাড়ে ৮টার মধ্যে বললেন যে, চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদের তারিখও বলে দিলেন বৃহস্পতিবার। আবার রাত সাড়ে ১০টা-১১টার দিকে আবার সেটা সংশোধন করলেন, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী নিজেই সংশোধন করলেন। কোথা থেকে তারা খবর পেয়েছেন, সে জন্য আজকে আবার ঈদ হবে।

“ঈদের একটা প্রস্তুতি আছে, নামাজ পড়ার জন্য তো একটা প্রস্তুতি দরকার। জনগণের কষ্টের বিষয়গুলো কখনোই এই সরকার সঠিকভাবে উপলব্ধি করেনি, উপলব্ধি করার প্রয়োজনও মনে করে না। যে কারণে জনগণ কষ্ট পায়, ভোগান্তি হয়, সেই ধরনের কাজ তারা করে। আমি মনে করি, দেশে সুশাসন না থাকার কারণে এই ঘটনাটি ঘটেছে।”

আওয়ামী লীগের শাসনকালে দেশ ‘গণতন্ত্রহীন’ হয়ে পড়েছে বলে দাবি করে আসছে বিএনপি। তারা বলছে, দেশে এখন সুশাসন, জবাবদিহিতা নেই। দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের ঘরে এবার ঈদের আনন্দ নেই বলে দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব।

“এই দিনে সারাদেশের মানুষের আনন্দ করার কথা। কিন্তু লক্ষ লক্ষ মানুষের ঘরে কোনো আনন্দ নেই, তাদের কোনো উৎসব নেই। কারণ হাজার হাজার গণতান্ত্রিক কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, তারা ঘরে থাকতে পারে না। এই ঈদের দিনেও তারা ঘরে যেতে পারে না। “কৃষকদের ঘরে কোনো আনন্দ নেই। আমরা জানি যে, এবার কৃষকরা ধান বিক্রি করতে পারে নাই। ফলে তাদের ঘরে কোনো আনন্দ নেই।” ঈদযাত্রায় দুর্ভোগের প্রসঙ্গ ধরে ফখরুল বলেন, “ঘরমুখী মানুষের আনন্দ অনেকাংশেই ম্লান হয়ে গেছে। গতকাল পর্যন্ত আমরা খবর পেয়েছি সড়ক দুর্ঘটনায় অনেকেই নিহত হয়েছেন। অনেকেই যানবাহনের সমস্যার কারণে বাড়িতে পৌঁছাতে পারেননি, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে ঈদ করতে পারেননি।”

দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবন্দি থাকার দিকটি তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের জন্য এটা আরও হৃদয় বিদারক এজন্য যে আমাদের নেত্রী কারা অন্তরীণ। তারা সঙ্গে আমরা দেখাটা পর্যন্ত করতে পারছি না। এই অবস্থার প্রেক্ষিতে ঈদুল ফিতরের দিনটি আমরা পালন করছি।”

এবারের ঈদ স্বস্তির বলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এই সরকারের কথাকে খুব বেশি গুরুত্ব দিই না। এজন্য দিই না যে, তারা সব সময়ই অসত্য কথা বলে এবং জনগণকে প্রতারনা করে। যেটা তারা বলে সেটা করে না বা তারা করতে পারে না, কিন্তু জনগণকে একটা বিভ্রান্তির মধ্যে রেখে দেয়।” ঈদের দিন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েও বিএনপি নেতারা তা পাননি বলে জানান ফখরুল। তিনি বলেন, “আমরা আবেদন করেছিলাম, অনুমতি দেয়নি। পরিবারের সাতজনকে মাত্র দিয়েছে। আইন যেটা আছে, জেল কোডে যেটা লেখা আছে, ঈদের উৎসবের দিনে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, স্বজন যারা আছেন, তাদেরকে দেখা করতে দিতে হবে। সেখানে তারা অবশ্যই তারা বিধি লঙ্ঘন করেছে। তারা একেবারে লিমিটেড করে দিয়েছে, পরিবারের সাতজন ছাড়া কেউ দেখা করতে পারবে না।”

ঈদের নামাজ পড়ে সকাল ১১টায় দলীয় নেতাদের নিয়ে শেরে বাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে গিয়ে ফুল দেন ফখরুল। সেখানেই সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। বিএনপির ভাইস চেয়ারপারসন এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা আশরাফউদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, কাজী আবুল বাশার, আহসানউল্লাহ হাসান, রফিক শিকদার, শাহ নেছারুল হক, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, আবুল কালাম আজাদ, মোস্তাফিজুল করীম মজুমদার এসময় উপস্থিত ছিলেন। প্রতি বছর খালেদা জিয়া ঈদের দিন জিয়ার কবরে ফুল দিতেন। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি কারাগারে যাওয়ার পর বিএনপির মহাসচিবসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা এই কর্মসূচিটি চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে কারাবন্দি খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন