সিলেটে তোপের মুখে মোকাব্বির খান

4

স্টাফ রির্পোটার, ঢাকা

দল ও জোটের সিদ্ধান্ত অগ্রাহ্য করে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ার পর এবার নিজ এলাকা সিলেটে তোপের মুখে পড়েছেন সিলেট-২ আসনের এমপি মোকাব্বির খান। সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত একটি সভায় অংশ নিয়ে তোপের মুখে পড়েন তিনি। সভায় মোকাব্বিরের অংশগ্রহণের প্রতিবাদে বিএনপি ও মহিলা দলের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ওই সভা বয়কট করেন। তবে আয়োজকদের অনুরোধে মোকাব্বির খান সভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রেখে সভাস্থল ত্যাগ করেন। এরপরই বিএনপি নেতারা সভায় যোগ দেন। জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সরকারি সেবাসমূহের মানোন্নয়ন শীর্ষক অভিজ্ঞতা বিনিময়’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আইডিয়া। সভায় আমন্ত্রিত ছিলেন আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। একপর্যায়ে সভাস্থলে প্রবেশ করেন সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান। তিনি সভাস্থলে আসতেই শুরু হয় হট্টগোল। এসময় মোকাব্বির খানের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন মহিলা দলের নেত্রীরা। কেউ কেউ মোকাব্বিরকে উদ্দেশ্য করে কটু মন্তব্যও করেন। এতে অনুষ্ঠানস্থলে উত্তেজনা দেখা দেয়। সম্প্রতি বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আপত্তি উপেক্ষা করেই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন সিলেট-২ আসনে গণফোরাম থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান। মানুষের মতামত উপেক্ষা করে মোকাব্বির শপথ নেয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন সিলেট বিএনপি নেতারা। শপথের পর বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো সিলেটে তাকে পেয়েই সেই ক্ষোভ ঝাড়লেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। এদিকে সভাস্থলে বিএনপি নেতাকর্মীদের আপত্তি ও ক্ষোভ আঁচ করতে পেরে আয়োজকরা মোকাব্বির খানকে দ্রæত সংক্ষিপ্ত একটি বক্তব্য দিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার অনুরোধ জানান। অবস্থা আঁচ করতে পেরে মোকাব্বির খানও বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করে পাঁচ মিনিটের মধ্যে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এরপর অনুষ্ঠানস্থলে আবারো এসে উপস্থিত হন বিএনপি নেতা ও কর্মীরা। বিএনপি নেতাদের মধ্যে ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেন মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ। সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আমরা জানতাম না ওই অনুষ্ঠানে মোকাব্বির খান আসবেন। তাই মোকাব্বির আসতেই আমরা অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেরিয়ে আসি। এসময় অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত মহিলা দলের নেত্রীরাও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান। পরে মোকাব্বির খান চলে গেলে আমরা আবার অনুষ্ঠানে যোগ দেই। অন্যদিকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, ‘মোকাব্বির সাহেব এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এটা আমাদের জানা ছিল না। উনাকে দেখে আমরা এ ব্যাপারে আয়োজকদের কাছে কারণ জানতে চাই এবং দ্রæত উনাকে হল থেকে বের করে দিতে বলি। পাশাপাশি আমরা হলের বাইরে চলে আসি। তখন হলের বাইরে মহিলা দলের নেত্রীরা মারমুখী হয়ে উঠলে আমি এবং মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন তাদের শান্ত থাকতে বলি। কিছুক্ষণের মধ্যেই আয়োজকরা মোকাব্বির খানকে বিদায় জানালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।’ এ ব্যাপারে আয়োজক সংগঠন আইডিয়া’র নির্বাহী পরিচালক নাজমুল হক বলেন, আমরা এই আয়োজনে সিলেটর সকল সংসদ সদস্যকেই আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। তাদের মধ্যে কেবল মোকাব্বির খান উপস্থিত হন। তিনি আসায় বিএনপি নেতারা ক্ষুব্ধ হয়ে অনুষ্ঠানস্থল থেকে চলে যান। পরে আমাদের অনুরোধে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে পাঁচ মিনিট পর মোকাব্বির খান চলে গেলে আবার বিএনপি নেতারা ফিরে আসেন। তবে, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা উত্তেজনাকর কিছু ঘটেনি। এদিকে অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী সিটি কাউন্সিলর শাহানারা বেগম, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নিগার সুলতানা ডেইজিসহ অর্ধশতাধিক রাজনৈতিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।