শেরপুরে নেসকোর বিদ্যুতের লাইন না মরণ ফাঁদ!

৩৪

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শেরপুরে নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানীর (নেসকো) অবহেলার কারনে বিদ্যুতপৃষ্ঠ হয়ে কৃষকের মৃত্যু। জানা যায়, নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানী লিঃ এর বিদ্যুতের সঞ্চালন কাজ চলছে বাঁশের খুটি দিয়ে। বাঁশের খুঁটি বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনের নজরে পড়ছে না। দুর্নীতির আড়াল করতেই বিষয়টি তারা আমলে নেননি। ঝুঁকিপ‚র্ণ এ সঞ্চালন ব্যবস্থা পূর্বেও কেড়ে নিয়েছে অনেক তাজা প্রাণ। গত ২০ মে সোমবার দুপুরে খানপুর মধ্যপাড়া গ্রামে ইদ্রিস আলী ঘোতা (৪০) নামের এক কৃষক বিদ্যুতপৃষ্ট হয়ে মারা গেছে। কয়েক বছরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হয়েছেন শিশু-বৃদ্ধ নারীসহ অনেকেই। মৃত্যু হয়েছে ২০১৭ সালে কুসুম্বি ইউনিয়নের গিয়াস উদ্দিন, শাহবন্দেগী ইউনিয়নের ফজলুল করিম, ২০১৮ ভবানীপুর ইউনিয়নের বেদারুল ইসলাম, দারকীপাড়া জোনায়েদ বাবু, পৌরশহরের নয়াপাড়ার মাহবুবুল আলম পাশা তার স্ত্রী শারমীন সহ অনেকে। ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুতের ভয়াবহতা থেকে গবাদিপশু পর্যন্ত রক্ষা পায়নি। হতাহতের এসব ঘটনায় স্থানীয় মানুষ বিদ্যুৎ বিভাগের উদাসিনতা ও গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। জানা গেছে, কিছু অসাধু কর্মকর্তা বিদ্যুত অফিসের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্রভাবে বাঁশের খুঁটি দিয়ে সংযোগ দেয়া হয় বিদ্যুতের লাইন। ঝুঁকিপ‚র্ণ এ ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আসছেন উপজেলার হাজার হাজার মানুষ। সঞ্চালনের ভেঙে পড়া এই ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে আখের গোছাচ্ছেন বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বরত এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী। সঞ্চালন লাইন খুলে দিয়েছে বিদ্যুৎবিভাগের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভাগ্য। সামান্য ঝড়, বাতাস, বৃষ্টি হলেই বিদ্যুতের তারগুলো মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ফলে এসব তারই মৃত্যুর ফাঁদ হয়ে দাঁড়ায় স্থানীয় গ্রামবাসীদের। আর আয় রোজগারের পথ খুলে যায় ওই কর্মকর্তা কর্মচারীর। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শেরপুর-ধুনট সড়কের রনবীরবালা ঘাটপারের পূর্বপার্শ্বে বিদ্যুত সঞ্চালন লাইনের কাজ চলছে বাঁশের খুঁটি দিয়ে। অনেক স্থানে পুরনো বাঁশের খুঁটি ভেঙে তার প্রায় মাটি ছুইছুই। এসকল বাঁশের খুঁটির তার মানুষ ও গবাদিপশুর নাগালের ভিতরে রয়েছে। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, কিছু অসাধু কর্মকর্তা অর্থের লোভে মানুষের জীবন নিয়ে খেলতে কোন দ্বিধা না করে এতটাই নাজুক অবস্থায় আন্দিকুমড়া পূর্বপাড়া দীর্ঘ প্রায় ১ কিঃ মিঃ গাছের সঙ্গে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে বিদ্যুত লাইন সরবরাহ করছে। দড়িমুকুন্দ থেকে রাজবাড়ী গ্রামের ধানের ক্ষেতের ভিতর দিয়ে বাঁশের খুঁটি দিয়ে বিদ্যুত লাইন সরবরাহ করছে সেই লাইনের তার মাটি ছুয়েছে। শৈল্লাপাড়া গ্রামে গাছ ও ঘরের ডাসা ও বাটাম (আঞ্চলিক ভাষা) সঙ্গে তার পেঁচিয়ে বিদ্যুত লাইন সরবরাহ করছে। এ সঞ্চালন ব্যবস্থায় দুর্ঘটনার ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এসকল এলাকাবাসী। বিদ্যুৎ বিভাগের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে তারা বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজসে অর্থের বিনিময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও প্রতিশ্রæতি ছিল বিদ্যুৎ বিভাগ বাঁশের খুঁটি দু’মাসের মধ্যে পরিবর্তন করে (এইচপুল খুঁটি) বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করে দেবে। কিন্তু দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোন পরিবর্তন করা হয়নি। বাঁশের খুঁটি, গাছ ও ঘরের বাটামের (আঞ্চলিক ভাষা) সঙ্গে তার পেঁচিয়ে চলছে ঝুঁকিপ‚র্ণ ভাবে বিদ্যুৎ সঞ্চালন। আর লোডশেডিংএর কথা তো কি বলব, আসা যাওয়ার ভেলকিবাজী চলছে দিনে ৭/৮ বার। বিদ্যুত থাকলেও বিদ্যুতের এমন লো-ভোল্টেজে বাতিতো জ্বলা তো দ‚রের কথা, মোবাইল চার্জ দেয়াটাও কষ্টকর ব্যাপার। গাড়ীদহ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার আনোয়ার হোসেন বাবু বলেন, ঝুকিপ‚র্ণভাবে বাঁশের খুটিতে চলছে বিদ্যুৎ সঞ্চালন, বিষয়টি বিদ্যুৎ বিভাগকে বারবার অবগত করা হলেও তারা কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। অপরদিকে, বিদ্যুৎ বিভাগ এতটাই দায়ীত্বহীন যে গত ১৫ দিন পূর্বে পৌরসাভার ৮ নং ওয়ার্ড দাঁড়কি পাড়া বিদ্যুতের নতুন খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে যা রাস্তার মাঝখানে। এই বিদ্যুৎ খুঁটির কারণে রাস্তায় চলাচল কারী যানবাহন ও পথচারী সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের উধাসিনতা ও গাফিলাতির কারণে যে কোন সময় যন্ত্রচালিত যানবাহন এই খুঁটিগুলোর সঙ্গে ধাক্কা খেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তাই বিদ্যুতের খুঁটি রাস্তার মাঝ থেকে দ্রæত সরিয়ে নেয়ার জন্য এলাকাবাসী দাবী জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে শেরপুর বিদ্যুত বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্রের নির্বাহি প্রকৌশলী ফরিদুল হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিদ্যুতের সঞ্চালন কাজ চলছে বাঁশের খুটি দিয়ে এগুলো সার্ভিস তার । কিন্তু ১৬০ মিঃ থেকে ২০০ মিটার পর্যন্ত অনুমোদন থাকলেও হাজার হাজার মিটার পর্যন্ত বিদ্যুতের সঞ্চালন কাজ চলছে বাঁশের খুটি দিয়ে এর উত্তর চাইলে কোন কথা না বলে ব্যস্ততার অযুহাত দেখান এবং তথ্য দিতে অপারকতা প্রকাশ করেন।