শিক্ষা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সূচি বদলানো উচিত

অনেক দিন ধরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সূচি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বেশির ভাগ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক মনে করেন, দীর্ঘ সময় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর জন্য উপযোগী নয়।

0 ১১৮

অনেক দিন ধরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সূচি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বেশির ভাগ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক মনে করেন, দীর্ঘ সময় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর জন্য উপযোগী নয়। কারণ, দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ে থাকলে শিক্ষার্থীর খিদে পায়, শরীর দুর্বল হয়, পড়া মনে থাকে না। কর্তৃপক্ষ বলে, তাদের দুপুরের খাবার (মিড-ডে মিল) দেওয়া হোক। শিক্ষক বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনেক বিবাহিত নারী শিক্ষক আছেন, তাঁদের সন্তান আছে। তাঁদের পক্ষে সংসার সামলিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যালয়ে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। কর্তৃপক্ষ তাঁদের বলে, যাঁরা পারেন না, তাঁদের চাকরি করার প্রয়োজন নেই। কিছু শিক্ষক মনে করেন, শিশুকে জ্ঞানীগুণী বানাতে হলে শিক্ষকদের কর্মঘণ্টা আরও বাড়ানো উচিত। কিছু কর্মকর্তা মনে করেন, ফাঁকিবাজ শিক্ষকদের দৌড়ের ওপর রাখা উচিত। তাই বিদ্যালয়ের সময় বাড়ানোর বিকল্প নেই।

বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিদিন ছয়টি আবশ্যকীয় বিষয় (বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, প্রাথমিক বিজ্ঞান, ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা) ছাড়াও সমাবেশ, কাব স্কাউট, শরীরচর্চা, সংগীত, চারুকারু শেখানো হয়। প্রতিদিন একটানা এসব বিষয় শিশুর জন্য বোঝাস্বরূপ। শরীরেও বোঝা বাড়ছে। কারণ, প্রতিটি শিশুকে ছয়টি বই, ছয়টি খাতা (ন্যূনতম ৪টি) পেনসিল বক্স, টিফিন বক্স, পানির বোতলসহ ভারী ব্যাগ পিঠে বয়ে নিতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো শিশু তার ওজনের ১০ ভাগের বেশি বস্তু বহন করলে তার হাঁটু, মেরুদণ্ড, ঘাড়, হৃৎপিণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে শিশু শিক্ষার্থীরা যখন ক্লান্ত-শ্রান্ত শরীর-মন নিয়ে ঘরে ফেরে, সেখানেও ওদের দুদণ্ড বিশ্রাম নেই। কেউ কোচিং, কেউ একাডেমি, কেউ নাচের স্কুলে দৌড়ায়। সন্ধ্যাবেলা অথবা সন্ধ্যার পরে ঘরে এসে আবার পড়া।

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, যেসব শিশু ছোটবেলায় বেশি চাপে থাকে, তারা বড় হয়ে বাস্তব পরিবেশ-পরিস্থিতির চাপ মানিয়ে নিতে সমস্যায় পড়ে। বিদ্যালয়ে বই–খাতার ভার আছে, শিক্ষকের শাসন আছে, কিন্তু খেলার মাঠ নেই। গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের শিশুরা মা-বাবাকে বিভিন্ন কাজে সাহায্য করে থাকে। যেমন: কৃষিকাজ, বাজার করা, রান্নার কাজ, কুটিরশিল্প তৈরি, দোকানের হিসাব রাখা ইত্যাদি। দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ে থাকতে হলে তারা তাদের পরিবারকে এই সহযোগিতাটুকু করতে পারবে না। গরমের দিনগুলো বড় হওয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দুপুরবেলায় ভ্যাপসা গরমে শিশুদের খুব কষ্ট হয়। আবার শীতের সময় দিন ছোট থাকায় শিশুদের ঠান্ডা লাগে। স্কুল শেষে বাড়ি যেতে যেতে সন্ধ্যা হয়।