রাতে ফোন করে ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব দেন এই শিক্ষক!

৪৭

স্টাফ রির্পোটার, ঢাকা

নাটোরের সিংড়ার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের গণিত শিক্ষক ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানী, ভোগান্তি, হুমকি প্রদানসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। গতকাল  বৃহস্পতিবার সকালে ওই স্কুলের ১৩জন শিক্ষার্থী এবং ১১জন অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযুক্ত শিক্ষক ফজলুর রহমানকে অপসারণের দাবির পাশাপাশি কঠোর শাস্তির দাবিও করেছেন তারা। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিংড়া উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক পরিচালিত বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের গণিত বিভাগের শিক্ষক ফজলুর রহমান তার বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের তার কাছে প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করেন। তার কাছে প্রাইভেট না পড়লে ব্যবহারিক খাতায় নম্বর না দেয়াসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন হুমকি প্রদান করেন। এছাড়া পাইভেট পড়ানো অবস্থায় একাধিক শিক্ষার্থীর স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেয়াসহ নানা ভাবে তিনি যৌন হয়রানি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে আরো বলা হয়, প্রায়ই গভীর রাতে ছাত্রীদের ফোন করে কুপ্রস্তাব দেন অভিযুক্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান। তার কুপ্রস্তাবে রাজি হলে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বেশি নম্বর দেয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন তিনি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত তিন পৃষ্ঠার এই অভিযোগ পত্রে অভিযুক্ত শিক্ষকের নামে মোট ১২টি অভিযোগ উল্লেখ করেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, গত ৬ এপ্রিল গণিত পরীক্ষার প্রশ্ন তিনি তার কাছে প্রাইভেট পড়া ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে পরীক্ষার আগেই ফাঁস করে দেন এবং পরীক্ষা চলাকালে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে দুর্ব্যবহার করেন। এই ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা গত ৮ এপ্রিল প্রধান শিক্ষক বরাবর অভিযোগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু এরপরও অভিযুক্ত শিক্ষক বিষয়টি টের পেয়ে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার দিন তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভিডিও করেন এবং ছাত্রীর বোরকা খুলে মুখ বের করতে বাধ্য করেন। সুমাইয়া নাহার, আয়েশা সিদ্দিকাসহ ভূক্তভোগী বিভিন্ন শিক্ষার্থী জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের হুমকির কারণে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন। এছাড়া এই শিক্ষকের ধারণ করা ভিডিও বখাটেদের দিয়ে ছাত্রীদের সম্মানহানী করারও আশঙ্কায় রয়েছেন তারা। তাই অবিলম্বে অভিযুক্ত শিক্ষককে দ্রæত অপসারণ এবং শ্বাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়া হলে এখানেও ফেনীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত রাফির মত পরিণতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এ বিষয়ে অভিযুক্ত গণিত শিক্ষক ফজলুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। শিক্ষার্থীরা তার মেয়ের মত, যৌন হয়রানীর কোনো প্রশ্নই আসে না। স্কুলের একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানির চেষ্টা করছেন। আর তিনি অভিভাবকদের অনুরোধে মাত্র ২০ থেকে ২৫জন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়ান। এ বিষয়ে স্কুলের অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান মোবাইল ফোনে বলেন, তিনি অফিসিয়াল কাজে দু’দিন থেকে ঢাকায় অবস্থান করছেন। ঢাকা থেকে ফিরে বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এ বিষয়ে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের সভাপতি ও সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, যৌন হয়রানীসহ বিভিন্ন অভিযোগে ওই শিক্ষককের বিরুদ্ধে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের সত্যতা পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।