বিএনপিতে ‘আদর্শ ও বিশ্বাস’ সংকট দেখছে আ. লীগ

৫১

স্টাফ রিপোর্টার,ঢাকা :

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি থেকে যারা নির্বাচিত হন তাদের শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে ভাঙনের মুখে পড়েছে জোট ও দলটি। এ ভাঙনের দায় সরকারের বলে অভিযোগ করছেন বিএনপি নেতারা। তবে আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করছেন, আদর্শ ও বিশ্বাসের সংকটের কারণেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ভাঙনের মুখে পড়েছে। অদূর ভবিষ্যতে বিএনপিতেও ভাঙন ধরতে পারে বলে মনে করছেন ক্ষমাতাসীন আওয়ামী লীগের কেউ কেউ। সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে আগামী এক মাসের মধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অসঙ্গতি দূর না হলে জোটত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী। তার এ ঘোষণা ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন জোটের অন্যতম শরিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব। এর আগে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করে সংসদে যোগ দেয়ায় ২০ দলীয় জোট ত্যাগ করেন আন্দালিভ রহমান পার্থের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি- বিজেপি। বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট না ছাড়লে ২০ দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা দেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানও। জোটে এ ভাঙনের জন্য সরকারকে দায়ী করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি অভিযোগ করেন, ২০ দলীয় জোট ভাঙা সরকারের খেলাধুলা। তবে আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করছেন, বিএনপি নেতাদের মিথ্যাচারের রাজনীতির কারণে জোটে ভাঙন শুরু হয়েছে। অচিরেই বিএনপিতেও ভাঙন শুরু হবে। কারণ আদর্শহীন দল টিকে থাকতে পারে না। বিএনপি প্রকৃতপক্ষে আদর্শহীন একটি দল, যাদের কোনো আদর্শ নেই। আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ জাগো নিউজকে বলেন, ‘যেকোনো দলেরই যদি আদর্শ না থাকে, তাহলে সে দল বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না। বিএনপির রাজনীতি আদর্শহীন। তাদের রাজনীতি শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। যেকোনো ভাবে ক্ষমতায় যাওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।’

‘আদর্শহীন রাজনীতির কারণে পরস্পরের প্রতি আস্থাহীনতা, অবিশ্বাস, সন্দেহ- এসব কারণে তাদের দলের মধ্যেই চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে দলের শীর্ষ দুই নেতা সন্ত্রাসী ও দুর্নীতির দায়ে একজন কারাগারে, আরেকজন বিদেশে পলাতক; সেই দলের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা থাকার কথা নয়। স্বাভাবিকভাবেই তাদের জোট থেকে দলগুলো বেরিয়ে নিজেদের মতো রাজনীতি করবে বলে ভাবছে। হয়তো অনেক দলই বেরিয়ে যাবে। শুধু জোটই নয়; এ দলই ভেঙে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। এখানে সরকারের কোনো হাত নেই কিংবা মাথাব্যথা নেই। তাদের আদর্শহীনতার রাজনীতির কারণে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, ‘ভুল রাজনীতি আগামী দিনগুলোতে বিএনপিকে ক্ষুদ্র সংগঠনে পরিণত করবে। বিএনপি গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। এ থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে বিএনপিতে ভাঙা-গড়া অনিবার্য।’

দলটির অপর সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘মাথা পইড়া গেলে দেহটা যেমন দাপাদাপি করে বিএনপির অবস্থাও এখন সে রকম। তারা দাপাদাপি করতেছে। তাদের অবস্থা টালমাটাল।’