তারকাদের জন্য আওয়ামী লীগের বদনাম

৮৫

স্টাফ রিপোর্টার,ঢাকা

কিছু তারকার জন্য আওয়ামী লীগের বদনাম হচ্ছে। আওয়ামী লীগ এদের দায় নিতে চাচ্ছে না। সম্প্রতি দুটি ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এর মধ্যে অভিনয়ের কাজে ওয়ার্কিং ভিসা নিয়ে ভারতে গিয়ে দেশটির চলমান লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেছে নায়ক ফেরদৌস। যে অভিযোগে বাংলাদেশি অভিনেতা ফেরদৌসের ভিসা বাতিল করা হয়। বাংলাদেশ হাইকমিশনের নির্দেশের পর তাকে দেশে ফিরতে হয়। এই ঘটনায় দুই বাংলায় তুমুল সমলোচনার পড়েছেন এই পড়তি নায়ক। ফেরদৌস আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণাতেও যুক্ত ছিলেন। যার ফলে গায়ে লেগেছে সরকারী দলের সিল। ফেরদৌস কাণ্ডে বিব্রত হয়েছে বাংলাদেশের মন্ত্রীরাও। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের রয়েছে সুসম্পর্ক। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। নরেন্দ্র মোদীর বিপক্ষ শিবিরে গিয়ে এমন কাণ্ডে নরেন্দ্র মোদিও ইঙ্গিতে ফেরদৌসের সমলোচনা করেছেন।

ফেরদৌস কাণ্ডের পর তোপের মুখে পড়লেন শমী কায়সার। শহীদুল্লাহ কায়সারের মেয়ে ও জহির রায়হানের ভাইঝি এখন পুরোদস্তুর আওয়ামী লীগার। মন্ত্রীত্ব চেয়ে পাননি, পরবর্তীতে সংরক্ষিত মহিলা আসনেও মিলেনি জায়গা। নানা সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিলেও তার প্রাপ্তিতে সেসব প্রমান মেলে না। শমী কায়সারকে বাইরের মানুষ মনে করে সরকারের ঘনিষ্ঠ ও ক্ষমতাবান কোন ব্যক্তিত্ব। তারই পরিপ্রেক্ষিতে কী শমী ঘটিয়েছে সেদিনকার ঘটনা? সাংবাদিকদের ‘চোর’ সম্বোধন করায় শমী কায়সারকে ঘিরে ফেসবুকসহ নানা মাধ্যমে চলছে আলোচনা ও সমালোচনা। জাতীয় প্রেসক্লাবের এক অনুষ্ঠানে দুটি স্মার্টফোন হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের চোর সম্বোধন করার পাশাপাশি প্রায় আধাঘণ্টা আটকে রাখেন শমী কায়সার।

পরে সাংবাদিকদের ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে কেক নিয়ে আসা লাইটিংয়ের এক কর্মী শমী কায়সারের স্মার্টফোন দুটি নিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ হওয়ার পর থেকেই ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন এই অভিনেত্রী। সিনিয়র সাংবাদিকসহ সকলশ্রেনীর মানুষ শমীর এমন কাণ্ডে ‘ছিছিছি’ উচ্ছারন করেন। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন শমী কায়সার সরকারী লোক বলেই কি সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণ করার সাহস করেছে? কিন্তু শমী কায়সার বা ফেরদৌসরা আওয়ামী লীগের তেমন কোন পদ পদবিতে নেই।

অভিনেত্রী বাধনও তার পার্সোনাল সমস্যা মেটাতে দলকে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। কোন এক অভিনেতা তার আবাসন ব্যবসার জন্য ব্যবহার করছেন দলকে। কোন এক অভিনেত্রী তার জামাইর ঠিকদারীর সুপারিশ করেন। সরকারী কর্মকাণ্ডে নাক গলানো যেমন তারকাদের পেশা হয়ে উঠেছে। তেমনি সরকারী বা আওয়ামী লীগার বলে নানা কাণ্ড ঘটিয়ে বিব্রত করছে মূল আওয়ামী লীগকে। এখনকার সময়ে এমন উদাহরণ হচ্ছে ভুরি ভুরি।

আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ রয়েছে এসবের ব্যাপারে। প্রধানমন্ত্রী সকলকে স্নেহ করেন। কিন্তু তাই বলে কেউ অন্যায় করলে প্রশ্রয় পাবে না। তাছাড়া তাদের কর্মকাণ্ডে সরকার বা আওয়ামী লীগ কোন দায়িত্বও নিবে না।’

নায়ক ও সাংসদ ফারুক বলেছেন,‘এসব কর্মকাণ্ডে সত্যি আমরাও বিব্রত। আমার কিন্তু দুটি পরিচয়। প্রথমত আমি মানুষের সেবক। আমি সাংসদ নির্বাচিত হয়েছি। এছাড়া আমি তারকা জগতেরও একজন মানুষ। আমার আঙ্গিনার মানুষ এসে যদি এমন ঘটনা ঘটায় তার দায়িত্ব আমি বা আওয়ামী লীগ নিবো না। আমি সাবধান করে দিচ্ছি। এটা যদি বারাবারি পর্যায়ে যায়। তাহলে দল থেকে তাদের শোকজ করা হবে।’