চিকিৎসকদের কর্মঘণ্টা নিয়ে কিছু কথা

107

অধ্যাপক ডা. আবুল হাসনাৎ মিল্টন ঃ

অন্যান্য কাজের সাথে চিকিৎসাসেবা পেশার কিছুটা ভিন্নতা আছে। যেহেতু হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টাই রোগী ভর্তি থাকে এবং প্রায় ক্ষেত্রেই জরুরি বিভাগ চালু থাকে, সেহেতু একজন চিকিৎসককে সকালের নিয়মিত শিফটের বাইরেও বিকেল-সন্ধ্যা-রাতেও কাজ করতে হয়। এখন কথা হল, সপ্তাহে ছয় দিন আটটা-আড়াইটার শিফটের বাইরে তিনি যে কাজ করেন, সেটা তার কর্মঘণ্টা বলে বিবেচিত হবে না কি সেটা স্রেফ ‘এমনি এমনি’ কাজ?

চাকরি বিধি অনুযায়ী একজন চিকিৎসক সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজ করবেন। সেটা তিনি সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করেও করতে পারেন, আবার দু’দিন আটযোগ আট হিসেবে প্রতিদিন ১৬ ঘণ্টা করে এবং একদিন ৮ ঘণ্টা, অর্থাৎ তিন দিনেও করতে পারেন। মোদ্দা কথা হল, হাসপাতালে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু রাখা। সেক্ষেত্রে প্রতিজন চিকিৎসকের সপ্তাহে ৬ দিন কাজ করার চেয়ে আমার কাছে মনে হয়েছে তিনি মোট ৪০ ঘণ্টা কাজ করছেন কিনা সেটা দেখাটা বেশি জরুরি।
পৃথিবীর উন্নত দেশসমূহে এভাবেই চলে। এর বাইরে যদি একজন চিকিৎসক কাজ করেন, তার জন্য তিনি অতিরিক্ত পারিশ্রমিক পান। ছুটির দিনে কাজ করলে পারিশ্রমিক আরও বেশি হয়। হাসপাতালে কে কবে কখন কাজ করবেন সেটা স্থানীয়ভাবেই নির্ধারিত হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সেটা হাসপাতাল পরিচালনার দায়িত্বে যারা থাকেন, তারাই এই ডিউটি রোস্টারটি নিয়মিত তৈরি করতে পারেন। আমি যদ্দুর জানি, তৃণমূল পর্যায়ের অনেক সরকারি হাসপাতালেই দীর্ঘদিন ধরে তরুণ চিকিৎসকরা এভাবেই কাজ করে আসছেন। যে কারণে দেখা যায়, তারা তিন-চারদিন কর্মস্থলে থেকে চল্লিশ ঘণ্টা বা তার চেয়ে বেশি কাজ করে সপ্তাহের বাকি সময়টা অন্যত্র থাকেন। এখন প্রশ্ন হল, বাকি সময়টা ওই চিকিৎসককে কর্মস্থলে অনুপস্থিত বলা হবে কি না? যেহেতু এ কারণে নানাবিধ জটিলতা তৈরি হচ্ছে, তাই এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দরকার। সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টার বেশি কাজ করলে তার জন্য কি একজন ডাক্তার বেতনের অতিরিক্ত পারিশ্রমিক পাবেন? অথবা বিকল্প হিসেবে তার জন্য বাড়তি কি কোন প্রণোদনা থাকবে? নাকি, বাড়তি সময়টা তাকে অতিরিক্ত পারিশ্রমিক ছাড়াই কাজ করতে হবে?

সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা এক বক্তৃতায় কর্মস্থলে অনুপস্থিতির জন্য সরকারি চিকিৎসকদের বিরূদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।আজকাল অনেকের মুখেই চিকিৎসকদের কর্মস্থলে অনুপস্থিতির অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। এমন প্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।কর্মস্থলে চিকিৎসকের অন্যায্য অনুপস্থিতির বিপক্ষে সবাই, এটা কোন চিকিৎসকও সমর্থন করে না।

জনস্বার্থে তাই ‘সরকারি চিকিৎসকের কর্মস্থলে অনুপস্থিতি’র সংজ্ঞা নির্ধারণ করাটা জরুরি হয়ে পড়েছে।

হাসপাতালে সরকারি চিকিৎসকদের উপস্থিতি নির্ধারণে ব্যবহৃত বায়োমেট্রিক যন্ত্রটিও যেন সেইভাবেই প্রোগ্রামিং করা হয়। অন্যথায়, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা কাজ করার পরেও কোন চিকিৎসককে ‘কর্মস্থলে অনুপস্থিত’ বলাটা অন্যায় হবে।