কৃষক কেন ধান খেতে দিচ্ছে আগুন, সন্তানেরা কেন মানববন্ধনে

২৬

সরকার কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি মণ ধান কিনতে ৫শ টাকা নির্ধারণ করেছে। অন্যদিকে ধান খেত থেকে ধান কাটতে একজন দিনমজুরকে প্রতিদিন দিতে হচ্ছে ৯শ থেকে ১ হাজার টাকা। তার মানে একজন মজুরের বিপরীতে প্রায় ২ মণ ধান! মণ প্রতি প্রায় ২০০/৩০০ টাকা লোকসান হচ্ছে কৃষকের। এইযখন অবস্থা তখন একজন কৃষক তার ফলন্ত ধান খেতে আগুন দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। রোববার দুপুরে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের বানকিনা গ্রামের আব্দুল মালেক সিকদার তার খেতের পাকা ধানে আগুন ধরিয়ে এমন প্রতিবাদ করেন। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরে সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন পর্যায়ে যথেষ্ট প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এছাড়া উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতে ধানকাটা শ্রমিক না পাওয়া এবং ধানের কমদামের বিষয়টিও গণমাধ্যমে এসেছে। ধানের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে কৃষকদের সন্তানেরা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মানববন্ধন পর্যন্ত করেছে।

বাজারে মোটা চালসহ বিভিন্ন মানের চাল ৪০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ধান মাত্র ৫০০ টাকা মণ দরে কেন বিক্রি হচ্ছে, এই প্রশ্ন সবার মনে ঘুরেফিরে এসেছে। এই বিষয়গুলো আমাদের ভাবাচ্ছে।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে চালকল ও মজুতদারদের নানা কারসাজির খবর আমরা বিগত বছরগুলোতে দেখে এসেছি। এই মৌসুমেও সেরকম কোনো চক্র সক্রিয় কিনা, বা সুযোগ নিচ্ছে কিনা, তা এখনই খতিয়ে দেখা দরকার।

দেশজুড়ে ভেজাল খাবারের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে সরকারসহ বিভিন্ন সংস্থা, সেরকমই মজুতদারি ও বাজার কারসাজি থাকলে সেগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া দরকার বলে আমরা মনে করি।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে দ্রুতহারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, আবাদযোগ্য জমি কমে যাওয়াসহ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রান্তিকালে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি আমাদের কৃষি। এসব সমস্যাকে সামনে রেখে ২০৩০ সনে ১৯ কোটি জনসংখ্যার জন্য শুধু দানাদার ৪ কোটির বেশি টন খাদ্য প্রয়োজন হবে। সেদিক বিবেচনা করে কৃষি তথা খাদ্যশস্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, বিপনন-বিতরণ ব্যবস্থায় যথেষ্ট মনোযোগ দিতে হবে বলে আমরা মনে করি। কৃষি জমি ১৯৭১ সনে যেখানে ছিল প্রায় ১ কোটি হেক্টর, বর্তমানে তা প্রায় ৬৫ লাখ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। একটা সময় দেশের ৮০ ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সাথে জড়িত থাকলেও বর্তমানে সে সংখ্যা এখন কিছুটা কমলেও জাতীয় উন্নয়নে এখনো কৃষির বিশেষ অবদান অনস্বীকার্য। এসব বিবেচনায় কৃষি ও কৃষকের চাহিদা যথাযথ নির্নয় করে গুরুত্ব দিতে হবে আমাদের নিরাপদ খাদ্য দিয়ে খাদ্য নিরাপত্তাকে। আমাদের আশাবাদ, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে দেখে ব্যবস্থা নেবেন।