কাহালুর সফল পাঁচ সংগ্রামী নারী

৩২

কাহালু (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়ার কাহালু উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসের আয়োজনে জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ শীর্ষক কার্যক্রমের আওতায় ৫ ক্যাটাগরিতে পাঁচ সংগ্রামী সফল নারী নির্বাচিত হয়েছেন। তারা এখন সমাজের নিপীড়িত নির্যাতিত ও অধিকার বঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কাহালু উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসের আয়োজনে ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আন্তজার্তিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ এবং বেগম রোকেয়া দিবস/২০১৮ উদযাপনে জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ কার্যক্রমের যাচাই-বাচাই শেষে পাঁচজন নারীকে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত করা হয়। এরা হলেন নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে উদ্যমে জীবন শুরু করেছেন যে নারী কাহালু উপজেলার বাঘোপাড়া গ্রামের মৃত হবিবর রহমান এর কন্যা মোছাঃ মাফুজা বেগম। তার স্বামী মাদকাশক্ত ও পরকীয়ার জন্য তাকে প্রায়ই মারধর করত, শেষে তাকে বাবার বাড়ীতে পাঠিয়ে দেন। অনেক কষ্ট করে অন্যের বাড়ীতে ঝি এর কাজ করে পুত্রর লেখাপড়া খরচ চালিয়ে যান। তিনি গার্মেন্টসে চাকুরী করে বর্তমানে তার পারিবারিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছেন। তিনি ৩০ হাজার টাকা দিয়ে জায়গা কিনেছে বর্তমানে সে অনেক ভাল আছেন। শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য আর্জনকারী নারী কাহালু উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের প্রতাপপুর গ্রামের মৃত আব্দুল গোফফার এর কন্যা মোছাঃ খাতিজা খাতুন। তিনি বিধবা মায়ের কন্যা অনেক কষ্ট করে সে নিজের পড়াশনার খরচ চালিয়ে এম এ পাশ করেছেন। এবং ব্র্যক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রোগ্রামের উপজেলা ম্যানেজার পদে চাকুরী করছেন। শিক্ষা ও চাকুরী এক সাথে পরিচালনার মাধমে খাতিজা তার জীবনকে বদলে ফেলেছে। অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী কাহালু পৌর এলাকার পাল্লাপাড়া গ্রামের মোঃ রাসেল মাহমুদ এর কন্যা মোছাঃ রুবিয়া আক্তার। তার অর্থনৈতিক অবস্থা খুব শোচনীয়। গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগী পালন, বøক বাটিক এবং সেলাই এর কাজ করেন তিনি। বর্তমানে তিনি ২ লক্ষ টাকা দিয়ে জমি কট নিয়েছে এবং ১৫ লক্ষ টাকা দিয়ে বর্তমানে ২টি পাকা বাড়ী তৈরী করেছেন। বর্তমানে তার ১টি মুরগীর খামার ও ১টি কুঠির শিল্পের বারখানা আছে। সেখানে অনেক অসহায় মহিলার কর্মসংস্থান হয়েছে। সফল জননী কাহালু উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের প্রতাপপুর গ্রামের স্বামী মৃত আব্দুল গোফফার  প্রাং এর স্ত্রী মোছাঃ শাহেরা বিবি। অভাবের সংসারে ৩টি সন্তান রেখে স্বামী মায়া যায়। স্বামীর মুত্যুর পর তিনি অর্থনৈতিক ভাবে অনেক কষ্টের মাঝে পড়েন। তিনি গ্রামে গ্রামে মেয়েদের পোষাক বিক্রি করে সংসার চালান। এর মধ্যে তিনি অতি কষ্টে বড় মেয়েকে সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স সহ এম এ পাশ করান। এবং বর্তমানে তার বড় মেয়ে ব্র্যক আইন সহায়তা কেন্দ্রে  উপজেলা ম্যানেজার পদে চাকুরী করছেন। পুত্র সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে ইতিহাস বিভাগ থেকে এম এ পাশ করে ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আছেন। ছোট মেয়ে কাহালু সরকারি ডিগ্রী কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্রী। সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান কাহালু উপজেলার সদর ইউনিয়নের জয়তুল গ্রামের স্বামী আমজাদ হোসেনের স্ত্রী মোছাঃ মিন্নিকা বেগম। তার অতি দরিদ্র পরিবারে বিয়ে হয়। তার সংসারে ২ জন মেয়ে ও ২ জন পুত্রর জম্ম হয়। তিনি ব্র্যক স্বাস্থ্য কর্মীপদে প্রশিক্ষণ নিয়ে গ্রামের গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করেন। এবং সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে গ্রামে গ্রামে দরিদ্র মেয়েদের সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে সাবলম্বি করে তুলেছেন। এছাড়া স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা নিশ্চিত করন, বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ইত্যাদি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজে অংশ গ্রহন করেন তিনি। কাহালু উপজেলা জয়িতা অন্বেষণে কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লায়লুন নাজমা বেগম জানান, অনেক আবেদনকারীর মধ্যে যাচাই-বাচাই শেষে উপজেলা পর্যায়ে ৫ জন জয়ীতাকে নির্বাচন করা হয়। তিনি আশা করেন উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচিত পাঁচজন জীয়তা আগামী দিনে সমাজ উন্নয়নে আরো গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবেন।