উড়োজাহাজের লিজের শর্ত পরিবর্তন কার স্বার্থে?

প্রতি বছর হজ পরিচালনার জন্য বিদেশি এয়ারলাইন্সের কাছ থেকে উড়োজাহাজ লিজ নেয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা

>> প্রতি বছর হজ পরিচালনার জন্য উড়োজাহাজ লিজ নেয় বিমান
>> নতুন শর্তে উড়োজাহাজের বয়স ২০ বছর থেকে ১২ বছর করা হয়
>> এক বছরের জায়গায় লিজের সময়সীমা বাড়ানো হয় তিন বছর
>> বিশেষ এক সংস্থাকে সুবিধা দিতে শর্ত পরিবর্তনের অভিযোগ

প্রতি বছর হজ পরিচালনার জন্য বিদেশি এয়ারলাইন্সের কাছ থেকে উড়োজাহাজ লিজ নেয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। নিয়ম অনুযায়ী, টেন্ডারের মাধ্যমে আগ্রহীরা এ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেন। গত বছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার হজযাত্রী সৌদি আরব যান। এর মধ্যে ৬৪ হাজার যাত্রী পরিবহন করে বিমান বাংলাদেশ। সিভিল এভিয়েশনের দেয়া শর্ত অনুযায়ী, টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী সংস্থার উড়োজাহাজের বয়স হতে হয় সর্বোচ্চ ২০ বছর। এ নীতি অনুসরণ করে অন্য বছরের মতো চলতি বছরও টেন্ডার ঘোষণার পর অনেক সংস্থা উড়োজাহাজের লিজ পেতে আগ্রহ দেখায়। গত ২৪ সেপ্টেম্বর টেন্ডার ঘোষণা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। কিন্তু টেন্ডারের সময়সীমা শেষ হওয়ার সাতদিন আগেই তা বাতিল করে রি-টেন্ডার দেয় সংস্থাটি। টেন্ডারের শর্ত পরিবর্তন করে উড়োজাহাজের সর্বোচ্চ বয়স ২০ বছর থেকে কমিয়ে ১২ বছর করা হয়। ফলে নতুন শর্তে অনেক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান লিজে অংশ নেয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসে। টেন্ডারে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যাও কমে আসে।

সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞদের ধারণা, এর ফলে অনেক বেশি টাকা ব্যয় করে বিমানকে উড়োজাহাজ লিজ নিতে হবে। এতে সংস্থাটির ব্যয় বাড়বে। অনিবার্যভাবে লোকসানের মুখে পড়বে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এ লোকসানের বোঝা টানতে হবে সাধারণ যাত্রীদের। কারণ লোকসানের টাকা তুলতে বাড়িয়ে দেয়া হবে টিকিটের দাম। এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালক (পরিকল্পনা) মাহবুব জাহান খান জাগো নিউজকে বলেন, বিমান পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবকিছু করে। বিষয়টিও সিদ্ধান্তের বাইরে নয়। কাউকে বিশেষ সুবিধা প্রদানের জন্য রি-টেন্ডার করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিমানের বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একটি চক্র মালিন্দ এয়ারলাইন্সকে চূড়ান্ত করতে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে শিডিউলে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিমানের পরিকল্পনা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শিডিউল পরিবর্তন এনে নতুন যে শর্ত যোগ করা হয়েছে তাতে শুধু মালিন্দ এয়ারলাইন্সই চূড়ান্ত হবে। দীর্ঘদিন কম দামে বিমানকে উড়োজাহাজ সরবরাহকারী ‘এয়ার এশিয়া’-কে বাদ দিয়ে মালিন্দকে নিয়ে কাজ করছে একটি শক্তিশালী মহল। এজন্য গত বছরের চেয়ে ঘণ্টায় ৭৫০ ডলার বেশি দিতে হবে বিমানকে। ফলে তিন বছর বিমানকে অতিরিক্ত ৪০ কোটি টাকা বেশি ব্যয় করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টেন্ডারে আরও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এক বছরের জায়গায় লিজের সময়সীমা করা হয়েছে তিন বছর, যা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন অনেকে। নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে ভবিষ্যতে ওই বিদেশি এয়ারলাইন্সের কাছে জিম্মিও হতে পারে দেশীয় সংস্থা বিমান। শুধু জিম্মি নয়, বছরে ৪০ কোটি টাকার লোকসান গুনতে হবে বিমানকে। লোকসান কমাতে বাড়তে পারে টিকিটের মূল্যও।

এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক পরিচালনা পর্ষদ সদস্য কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, বিমানকে লাভজনক করতে হলে এর প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে হবে হিসাব-নিকাশ করে। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার উদ্দেশ্য যদি ভালো কিছু হয় তাহলে সাধুবাদ জানাই। যদি সেটি কোনো বিশেষ প্রতিষ্ঠানকে দেয়ার জন্য হয়, তাহলে অবশ্যই তা নিন্দনীয়। নতুন শর্তজুড়ে দেয়ার কারণে টেন্ডার থেকে বাদ পড়া এক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, পরিবর্তন আনা হয়েছে আমাদের বাদ দেয়ার জন্য। একটি প্রভাবশালী মহল মালিন্দকে লিজ বাণিজ্যে সফল করার জন্য এসব করছে। এসব বিষয়ে জানতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোকাব্বির হোসেনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সাড়া দেননি।