আজ পহেলা বৈশাখ

১৩

সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

পুরোন বছরের অবসান, নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে আজ পহেলা বৈশাখ।বাংলাদেশের মানুষ উৎসব প্রিয় এদেশে ১২ মাসে তের পর্ব লেগেই আছে। যে কোন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এ দেশের মানুষ আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠেন। এ রকম বিভিন্ন উৎসবের মধ্যে পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ একটি অন্যতম অনুষ্ঠান। নতুনকে বরন করে নেবার আকুলতা থেকেই বাঙ্গালীর জীবনে নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ বরনের সূচনা। বাংলা বছরের শেষ চৈত্রের অবসানে বৈশাখ আসে,আসে নববর্ষ। বৈশাখের প্রথম দিনটিতে মানুষের মনে জাগে নানা আশা আনন্দ। উত্থান, পতন, আশা, নিরাশা, আনন্দ, বেদনা,ভরা মানুষ মানব জীবনের অতিত কে ভুলে মানুষ আশার বাণী খোঁজে নতুন বছরে। তাই তো কবির ভাষায়- এসো হে বৈশাখ,এসো এসো। মুছে যাক গøানী ঘুঁেচ যাক জরা। অগ্নী ¯œানে সূচি হক ধরা। প্রাচীন কালে আমাদের দেশে অগ্রহায়ন মাস থেকে বছর গননা হত। এদেশের অশিক্ষিত জনগন তখনো চন্দ্র সূর্যের গতি অবলকন করে বর্ষগণনা করতে শেখেনি। তাই প্রকৃতির স্বভাব ও লক্ষন দেখে বর্ষ গণনা করত। সে সময়ে কৃষকের ঘরে নতুন ফসল থাকতো। ফলে ঋণ পরিশোধ ও খাজনা আদায় ছিলো সর্থাথ সময়। কিন্তু স¤্রাট আকবর বাংলা সনের প্রবর্তন করেন। তিনি ১৫৫৮ খ্রি: সিংহাসনে আহরন করেন। তখন ছিল বাংলা ৯৬৩সন। মোঘল স¤্রাট আকবরের সিংঘাসনে আরহনের এ দিনটিকে স্মরণিয় রাখার জন্য বাংলা সনের প্রবর্তন বলে অনেকেই ধারনা করেন। সন আরবি শব্দ,এই সনের মুল ¯্রষ্ঠা আমির ফতেউল্লাহ সিরাজি। অনেকের মতে সৌর বছর ও মুসলমানদের হিজরী সনের অর্থাৎ চন্দ্র বছরের সমন্বয়ে বাংলার সুলতান হোসেন সাহের প্রচেষ্টায় বাংলা সন চালু হয়। হোসেন সাহের রাজত্ব শুরু হয় ৯০৩ হিজরি অর্থাৎ ১৪৯৮ খ্রি: এ হিসাব অনুসারে তাদের ধারনা যে, সুলতান হোসেন সহই বর্তমান বাংলা সনের ¯্রষ্টা। তবে অনেকেই দ্বিধাহীন চিত্তে স্মারন করেন যে, মুঘল স¤্রাট আকবর এর আমলেই সর্ব ভারাতীয় বর্ষপুঞ্জিতে অন্যতম সন হিসাবে স্বীকৃতি পায়। বছরের প্রথম দিনটি প্রতিদিনের মতই একটি দিন। কিন্তু বাংলা নব-বর্ষের কোথায় যেন একটি ভিন্নতা রয়েছে। যেমন পহেলা বৈশাখে বেশি চোঁখে পরে হালখাতা। ব্যবসায়ীদের দোকানে দোকানে হালখাতার উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। পুরনো বছরের হিসাব মিটিয়ে ব্যবসায়ীরা নতুন খাতার উদ্বোধন করেন। দোকান ঘর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সুন্দর করে সাজিয়ে এ হালখাতা অনুষ্ঠিত হয়। তবে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যেই হাল খাতার প্রবনতা বেশি দেখা যায়। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দেশে প্রায় সর্বত্রই ছোটবড় অনেক মেলা বসে। মেলায় নানা রকম হস্ত শিল্পসহ  স্থানীয় উৎপন্ন বিভিন্ন মালামাল পাওয়া যায়। বিনোদনের জন্য থাকে নাচ, গান, নাগরদলা,সার্কাস ইত্যাদি। এসব অনুষ্ঠানে জাতি,ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহন করেন। বর্তমানে বাংলাদেশের নব-বর্ষের উৎসব শুধু হাল খাতা আর মেলার মধেই সিমাবদ্ধ নয়। এটি এখন জাতীয় উৎসবে পরিনত হয়েছে। এখন দেশের সব শহর ও গ্রামেও কম বেশি পহেলা বৈশাখ পালিত হয়। বড় বড় শহর গুলোতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়। ক্লাব ,লাইব্রেরী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান র‌্যালি,যাত্রা,নাটক,কবিগান প্রভৃতি অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। আজ কাল প্রায় সব শহরেই সুর্য্য উদয়ের সাথে সাথে প্রভাত ফ্যারি ও র‌্যালির বণাঢ্য সূর বাতাসে ভেসে বেড়ায়। রাজধানী ঢাকার রমনার বটমুলে সুর্য্য ওঠার সাথে সাথে শুরু হয় বর্ষ বরণ উৎসব। পূর্বে হেন্দু সম্প্রদায় চৈত্র সংক্রান্তী দিবাগত রাতে ২০ রকম রান্না রেধে রাতে কিছু খেয়ে পরদিন নতুন বছরের সকালে খাওয়ার জন্য বাকিটা রেখে দিতেন। যার নাম বিশুয়া। পূববর্তী বছরের ধারাবাহিকা রর্ক্ষাতে এ আচার অনুষ্ঠান। কিন্তু সমকালে ভদ্র সমাজে পান্তা ইলিশ খাওয়া চালু হয়েছে। দিবস রজনীর পরিক্রমায় বাংলা নব-বর্ষের দিনটি শুধু মাত্র একটি দিন হতে পারে না। কারন এর সাথে জড়িত রয়েছে। বাঙ্গালীর ইতিহাস ও ঐতিহ্য। এ দিনে মানুষ আশাবাদি হয়। পুরো বছর ভাল থাকবে বলে সুখ শান্তি কামনা করে। তাই কবির কন্ঠে গেয়ে হঠে মুক্ত করি দিনুদ্বার আকাশের যত বৃষ্টি ঝর ঝর আয় মোর বুকে সঙ্গের মতোন তুলি একটি ফুৎকার। হানি দাও হৃদয়ের মুখে। আজ পহেলা বৈশাখ ১৪২৬ সন। আজকের দিনটিতে আমরা যত উৎসবে মেতে থাকিনা কেন। আমরা যেন তেমনি বিশ্ব মানবতা পরস্পর পরস্পরের প্রতি সৌহাদ্যতা রাখি। নিজেকে যেন নিজের মধ্যে সিমাবদ্ধ না রাখি। দেশে ও জাতির জন্য আমরা ভেদা ভেদ ভুলে সকলেই সকলকে আপন পরি। এই হোক আমাদের পহেলা বৈশাখের চেতনা।